নামাজের বিধি-বিধান [3]

                        নামাজের বিধি-বিধান :-

    কাবা ঘরের অভ্যন্তরে নামাজ বিধান :-

 

কাবা ঘরের অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করার বিধান :-
কাবার অভ্যন্তরে ফরজ ও নফল সালাত আদায় জাইয। উভয় বিষয়ে ইমাম শাফিঈ (র.) এর ভিন্ন মত রয়েছে। আর শূধু ফরযের ব্যাপারে মালিক (র.) এর ভিন্ন মত রয়েছে। আমাদের দলীল রাসূলূল্লাহ্ (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন কাবা ঘরের অভ্যন্তরে সালাত আদায় করেছেন। আর এ কারণে যে, অভ্যন্তরীণ সালাতের যাবতীয় শর্ত সম্পন্ন হয়েছে।
কাবার অভ্যন্তরে ফরজ ও নফল সালাত আদায় জাইয। উভয় বিষয়ে ইমাম শাফিঈ (র.) এর ভিন্ন মত রয়েছে। আর শূধু ফরযের ব্যাপারে মালিক (র.) এর ভিন্ন মত রয়েছে। আমাদের দলীল রাসূলূল্লাহ্ (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন কাবা ঘরের অভ্যন্তরে সালাত আদায় করেছেন। আর এ কারণে যে, অভ্যন্তরীণ সালাতের যাবতীয় শর্ত সম্পন্ন হয়েছে। এতে কেবলামুখী হওয়াও পালিত হয়েছে। কেননা সমগ্র কা’বা সম্মুখে রাখা শর্ত নয়। ইমাম যদি কা’বার ভিতরে জামা’আতের ইমামতি করেন, আর তখন মুক্তাদীদের কেউ ইমামের পিঠের দিকে নিজের পিঠ দিয়ে দাড়ায় তবুও জাইয হবে। কেননা সে কেবলামুখী রয়েছে আপন ইমামকে ভুলের উপর রয়েছে বলেও সে মনে করে না। চিন্তা করে কিবলা নির্ধারণের বিষয়টি এর বিপরীত।
আর তাদের মাঝে যে ইমামের দিকে পিঠ দিয়ে দাড়াবে, তার নামায জাইয হবে না। কেননা যে তার ইমামের চেহারার দিকে পিঠ দিয়ে দাড়াবে, তার নামায জাইয হবে না। কেননা সে তার ইমামের অগ্রবর্তী হয়ে গেছে। ইমাম যদি মাসজিদুল হারামে সালাত পড়ান আর লোকেরা কা’বার চারপাশে হালকা করে দাড়ায় এবং ইমামের সালাতে ইকতিদা করে সালাত পড়ে তা হলে তাদের মধ্যে যে কাবা’র দিকে ইমামের চেয়ে অধিক নিকটবর্তী হয়, তারও সালাত জাইয হবে, যদি সে পাশে না দাড়িয়ে থাকে, যে পাশে ইমাম আছেন। কেননা একই পার্শ্বে হওয়ার বেলায়ই অগ্রবর্তিতা ও পশ্চাদবর্তিতা প্রকাশ পাবে।
এ সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। কারণ, আমাদের মতে কা’বা হল আসমান পর্যন্ত খোলা স্থল ও শূন্য স্থান, ভবন নয়। আর ভবন তো স্থানান্তরিতও হতে পারে। এ জন্যই তো কেউ জাবালে আবূ কূবায়স এর চূড়ায় উঠে সালাত আদায় করলে তার সালাত জাইয হবে। অথচ ভবন তো তার সম্মুখে বিদ্যমান নেই। অবশ্য কা’বার পাশে আদায় মাকরূহ। কেননা এতে কা’বার প্রতি অসম্মান করা হয় এবং এ সম্পর্কে নবী (সা.) থেকে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত আছে।




সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের নামাজ আদায় করার বিধি-বিধান :-

ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, যখন সূর্যগ্রহণ হবে তখন ইমাম নফলের অনুরূপ দু’রাকাআত সালাত আদায় করবেন। প্রতি রাকাআতে একটি রুকই হবে। ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, (প্রতি রাকাআতে) দু’টি রুকু হবে। তার দলীল হল ‘আইশা (রা.) বর্ণিত হাদীছ।

ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, যখন সূর্যগ্রহণ হবে তখন ইমাম নফলের অনুরূপ দু’রাকাআত সালাত আদায় করবেন। প্রতি রাকাআতে একটি রুকই হবে। ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, (প্রতি রাকাআতে) দু’টি রুকু হবে। তার দলীল হল ‘আইশা (রা.) বর্ণিত হাদীছ। আমাদের দলীল হল ইব্‌ন উমার
(রা.) বর্ণিত হাদীছ। আর যেহেতু (ইমামের সংগে ) নৈকট্যের কারণে বিষয়টি পুরুষদের কাছেই অধিকতর প্রকাশিত সেহেতু ইব্‌ন উমর (রা.) বর্ণিত রিওয়ায়াতই অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। উভয় রাকাআতে (ইমাম) কিরাত দীর্ঘ করবেন। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে (ইমাম)
নীরবে কিরাত পড়বেন। আর সাহেবাইনের মতে উচ্চৈস্বরে পড়বেন। ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর থেকে ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর অনুরূপ মতও বর্ণিত হয়েছে। কিরাত দীর্ঘ করার বক্তব্যটি উত্তম হিসাবে গণ্য। সুতরাং ইচ্ছা করলে ইমাম কিরাত সংক্ষিপ্ত করতে পারেন। কেননা,
সুন্নাত হল গ্রহণের সময়টিকে সালাত ও দু’আ দ্বারা পরিপূর্ণ করা। সুতরাং একটিকে সংক্ষিপ্ত করলে অন্যটিকে দীর্ঘ করবে। নীরবে এবং উচ্চৈস্বরে কিরাত পড়ার ব্যাপারে সাহেবাইনের দলীল হল ‘আইশা (রা.) বর্ণিত হাদীছ যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) তাতে উচ্চৈস্বরে
কিরাত পড়েছেন।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হল ইব্‌ন ‘আব্বাস ও সমুরাহ ইব্‌ন জুন্দুর (রা.) এর রিওয়ায়াত। আর অগ্রাধিকারের প্রদানের কারণ পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর কেন হবে না? এটা তো দিনের সালাত, আর দিনের সালাত হল নিশব্দ। সালাতের পর সূর্য গ্রহণ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত
দু’আ করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যখন তোমরা এ ধরনের ভয়াবহ কোন অবস্থা দেখতে পাবে, তখন তোমরা দু’আর মাধ্যেমে আল্লাহর অভিমুখী হবে। আর দু’আসমূহের ক্ষেত্রে নিয়ম হল তা সালাতের পরে হওয়া। যে ইমাম জুমুআর সালাত পড়ান, তিনিই সালাতুল কুসুফ
পড়াবেন। তিনি উপস্থিত না হলে লোকেরা একা একা সালাত আদায় করবে। (ইমামতির জন্য কে অগ্রবর্তী হবে, এই) ফিতনা হতে বাচার জন্য। চন্দ্র গ্রহণের ক্ষেত্রে জামা’আত নেই। কেননা রাত্রিকালে সমবেত হওয়া কষ্টকর। কিংবা সংকট সৃষ্টির আশংকা রয়েছে। আর প্রত্যেকে
একা একা সালাত আদায় করবে।কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- যখন তোমরা এই ধরনের ভয়ংকর কিছু দেখতে পাবে, তখন তোমরা সালাতের আশ্রয় গ্রহণ করবে। সূর্য গ্রহণের সালাত (জুমু’আর মত ) কোন খুতবা নেই। কেননা তা হাদীছে বর্ণিত হয়নি।

Post a Comment

0 Comments