নামাজের বিধি-বিধান [4]

   অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ.







অসুস্থ ব্যক্তি যখন দাঁড়াতে অক্ষম হয় তখন সে বসে রুকু-সাজদা করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ইমরান ইবন হাসীণ (রা.) কে বলেছেন তুমি দাড়িয়ে সালাত আদায় কর। যদি তা না পার তবে বসে (পড়)। যদি তা না পায় তবে পার্শ্বে শয়ন করে ইংগিতের মাধ্যমে। তাছাড়া কুদূরী (র.) বলেন, যদি রুকু-সাজদা করতে না পারে তাহলে ইশারায় তা আদায় করবে।

অসুস্থ ব্যক্তি যখন দাঁড়াতে অক্ষম হয় তখন সে বসে রুকু-সাজদা করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ইমরান ইবন হাসীণ (রা.) কে বলেছেন তুমি দাড়িয়ে সালাত আদায় কর। যদি তা না পার তবে বসে (পড়)। যদি তা না পায় তবে পার্শ্বে শয়ন করে ইংগিতের মাধ্যমে। তাছাড়া কুদূরী (র.) বলেন, যদি রুকু-সাজদা করতে না পারে তাহলে ইশারায় তা আদায় করবে। অর্থাত্ বসা অবস্থায় (ইশারায় রুকু-সাজদা করবে) কেননা এতটুকু করার সামর্থ্য তার রয়েছে। তবে সাজদার ইশারাকে রুকুর ইশারার তুলনায় অধিক অবনমিত করবে। কেননা ইশারা হল রুকু-সাজদার স্থলবর্তীতা রুকু-সাজদার হুকুম গ্রহণ করবে। কপালের কাছে কোন কিছু উঁচু করে তার উপর সাজদা করবে না। সাজদা করার জন্য কিছু তার কপালের সামনে উঁচু করে ধরা হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- যদি তুমি ভূমিতে সাজদা করতে পার তবে সাজদা কর। অন্যথায় মাথা দিয়ে ইশারা কর। আর যদি কিছু তুলে ধরা হয় এবং সেই সাথে আপন মাথাও কিণ্চিত অবনত করে, তবে ইশারা পাওয়া যাওয়ার কারণে তা যথেষ্ট হবে। আর যদি উক্ত উত্তোলিত বস্তুকে কপালের উপর শুধু স্থাপন করে তবে ইশারা না হওয়ার কারণে তা যথেষ্ট হবে না। আর যদি বসতে না পারে তবে পিঠের উপর চিত হয়ে শোবে এবং দু’পা কেবলামুখী করবে। এবং ইশারায় রুকু-সাজদা করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- অসুস্থ ব্যক্তি দাড়িয়েঁ সালাত আদায় করবে। যদি তা না পারে তাহলে বসে (আদায় করবে)। যদি তা না পারে তাহলে চিত হয়ে ইশারায় আদায় করবে। যদি তাও না পারে তাহলে আল্লাহ্ তা’আলাই তার ওযর কবূল করার অধিক হকদার।
যদি পার্শ্বে শয়ন করে আর তার চেহারা কেবলামুখী থাকে তবে তা জাইয হবে। প্রমাণ হল ইতোপূর্বে আমাদের বর্ণিত (ইমরান ইব্‌ন হাসীনের) হাদীছ। কিন্তু আমাদের মতে প্রথম সুরতটি উত্তম। ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। কেননা চিত হয়ে শয়নকারী ব্যক্তিরা ইশারা কা’বা শরীফের অভিমুখী হয়। পক্ষান্তরে পার্শ্ব শয়নকারী ব্যক্তির ইশারা তার পদদ্বয় অভিমুখী হয়। অবশ্য তা দ্বারা সালাত আদায় হয়ে যাবে। যদি মাথা দিয়ে ইশারা করতে সক্ষম না হয় তবে তার সালাত বিলম্বিত হবে। কিন্তু চোখ দ্বারা, অন্তর দ্বারা বা চোখের দ্বারা ইশারা করা যাবে না। ইমাম যুফার (এবং আহমদ, শাফিঈ ও মালিক (র.) এর ভিন্নমত রয়েছে। আমাদের প্রমাণ হলো ইতোপূর্বে আমাদের বর্ণিত হাদীছ। তাছাড়া যুক্তি এই যে, নিজস্ব মত দ্বারা স্থলবর্তী নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আর মাথা দিয়ে ইশারা এর উপর কিয়াস করা সংগত নয়। কেননা মাথা দ্বারা সালাতের রুকন আদায় করা হয় অথচ চোখ বা অপর দু’টি দ্বারা তা করা হয় না। যদি সালাত বিলম্বিত করা হবে-ইমাম কুদূরীর এ বক্তব্যে ইংগিত রয়েছে যে, সালাতের ফরজ তার থেকে রহিত হবে না। যদিও অক্ষমতা একদিন এক রাত্রের বেশী হয় আর সে সজ্ঞানে থাকে। এ-ই বিশুদ্ধ মত। কেননা সে শরীআতের সম্বোধন উপলদ্ধি করতে পারে। অজ্ঞান লোকের বিষয়টি এর বিপরীত।
যদি দাঁড়াতে সক্ষম হয় কিন্তু রুকু-সাজদা করতে সক্ষম না হয়, তাহলে কিয়াম করা জরুরী নয়, বরং বসে ইশারায় (রুকু-সাজদা করে) সালাত আদায় করবে। কেননা, কিয়াম রুকন হয়েছে সাজদায় যাওয়ার মাধ্যম হিসাবে। কারণ, কিয়াম থেকে সাজদায় যাওয়ার মধ্যে চূড়ান্ত তাযীম প্রকাশ পায়, সুতরাং কিয়ামের পরে সাজদা না হলে তা রুকন রূপে গণ্য হবে না। সুতরাং অসুস্থ ব্যক্তিকে ইখতিয়ার দেওয়া হবে। তবে উত্তম হল বসা অবস্থায় ইশারা করা। কেননা তা সাজদার সাথে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ। সুস্থ ব্যক্তি দাড়িয়েঁ আংশিক সালাত আদায় করার পর যদি অসুস্থতা দেখা দেয় তাহলে বসে রুকু-সাজদা করে সালাত পূর্ণ করবে। আর সক্ষম না হলে ইশারা দ্বারা আদায় করবে। আর (বসতে) সক্ষম না হলে চিত হয়ে শোয়ে আদায় করবে। কেননা, নিম্নস্তরকে উচ্চস্তরের উপর ‘বিনা’ করেছে। সুতরাং এটা ইকতিদার মত। কোন ব্যক্তি অসুস্থতাবশতঃ বসে রুকু-সাজদা করে সালাত শূরু করল। এরপর (সা্লাতের মাঝেই) সুস্থ হয়ে গেল, তাহলে ইমাম আবূ হানীফা ও আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে সে তার পূর্ববর্তী সালাতের উপরই বিনা করে দাড়িয়ে আদায় করবে। আর মুহাম্মদ (র.) এর মতে নতুন করে সালাত শুরু করবে। এ মতপার্থক্যের ভিত্তি হল তাদের ইকতিদা সংক্রান্ত মতপার্থক্য। পূর্বে এর বিবরণ (ইমামাত অনুচ্ছেদ) বর্ণিত হয়েছে। আর যদি আংশিক সালাত ইশারা দ্বারা আদায় করার পর রুকু-সাজদা করতে সক্ষম হয়, তাহলে সকলের মতেই নতুন করে সালাত শুরু করতে হবে। কেননা, ইশারা দ্বারা আদায়কারীর পিছনে রুকু-সাজদাকারীর ইকতিদা করা জাইয নয়। সুতরাং ‘বিনা’ ও জাইয হবে না।
যে ব্যক্তি দাড়ানো অবস্থায় নফল সালাত শুরু করে পরবর্তীতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সে লাঠিতে বা দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়াতে পরে কিংবা বসেও আদায় করতে পারে। কেননা, এটা ওযর। বিনা ওযরে হেলান দেওয়া অবশ্যা মাকরূহ। কারণ তা আদবের খেলাফ। কেউ কেউ বলেন ইমাম আবূ হানীফা (র.)এর নিকট তা মাকরূহ। কেননা তার মতে বিনা ওযরে বসা জাইয আছে। সুতরাং হেলান দেয়া মাকরূহ হতে পারে না। ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে যেহেতু (বিনা ওযরে) বসা জা্ইয নেই, সেহেতু হেলান দেয়াও মাকরূহ হবে। যদি (দাড়িয়ে সালাত শুরু করার পর) বিনা ওযরে বসে পড়ে, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমেই তা মাকরূহ হবে। তবে আবূ হানীফা (র.) এর মতে সালাত দুরস্ত হবে। কিন্তু সাহেবাইনের মতে দুরস্ত হবে না। নফল অনুচ্ছেদ এ আলোচনা বিগত হয়েছে। কোন ব্যক্তি ‘জলযানে’ ‘বিনা ওযরে’ বসে সালাত পড়লে ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে তা জাইয হবে। তবে দাড়িয়ে আদায় করা উত্তম। আর সাহেবাইন বলেন যে, ওযর ছাড়া তা জা্ইয হবে না। কেননা সামর্থ্য তার আছে। সুতরাং তা পরিত্যাগ করা যাবে না। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর যুক্তি এই যে, সেখানে মাথা ঘুরানোর সম্ভাবনাই প্রবল সুতরাং সেটা বাস্তবতূল্য। তবে দাড়িয়ে পড়া হল উত্তম। কেননা তা মতপার্থক্যের সংশয় মুক্ত। আর যতটা সম্ভব মতপার্থক্য থেকে দূরে থাকাই উত্তম। কেননা তা অন্তরের জন্য অধিক প্রশান্তিকর। এ মতপার্থক্য নোংগরহীন নৌকার ক্ষেত্রে। পক্ষান্তরে বাধা নৌকা নদীর তীরের (ভূমির) মতই। এটাই বিশুদ্ধ মত।
যে ব্যক্তি পাচ ওয়াক্ত সালাত কিংবা তার কম সময় বেহুশ ছিল, সে কাযা আদায় করবে। আর যদি পাচ ওয়াক্তের বেশী বেহুশ থাকে, তাহলে কাযা আদায় করবে না। এটা সূক্ষ কিয়াসের সিদ্ধান্ত, সাধারণ কিয়াস অনুযায়ী অজ্ঞনতা যদি একপূর্ণ সালাতের ওয়াক্ত স্থায়ী হয়, তাহলে কাযা ওয়াজিব হবে না। কেননা অক্ষমতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তা পাগল হওয়ার সমতুল্য। সূক্ষ কিয়াসের ব্যাখ্যা এই যে, সময় দীর্ঘ হলে কাযা সালাতের সংখ্যা বেড়ে যায় ফলে আদায় করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে সময় সংক্ষিপ্ত হলে কাযা সালাতের সংখ্যা কম হয়; ফলে তাতে কোন কষ্ট হবে না। আর বেশীর পরিমাণ হল কাযা সালাত একদিন ও একরাত্র দাড়িয়ে যাওয়া। কেননা তখন তা পুনরাবৃত্তির গণ্ডিতে প্রবেশ করে যায়। আর পাগল হওয়ার হুকুম অজ্ঞান হওয়ার মত। আবূ সুলায়মান (র.) এরূপই উল্লেখ করেছেন। ঘুমের বিষয়টি ভিন্ন। কেননা ঘূম এত দীর্ঘ হওয়া বিরল। সুতরাং সেটা সংক্ষিপ্ত ঘুমের পর্যায়ভূক্ত বলেই গণ্য হবে। ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে বেশীর পরিমাণ হিসাব করা হবে সালাতের ওয়াক্ত হিসাবে। কেননা সেটা দ্বারাই পুনরাবৃত্তি সাব্যস্ত হয়। আর ইমাম আবূ মালিক ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে সময় হিসাবে। ‘আলী (রা.) ও ইবন উমর (রা.) থেকে এটাই বর্ণিত হয়েছে। নির্ভূল সম্পর্কে আল্লাহ্ই উত্তম জানেন।

                                                 

            ইমামতির সাথে সম্পর্কিত বিধি-বিধান :-


একনজরে নামাজের ইমামতি সম্পর্কিত বিধি-বিধান :-
জামাআত সুন্নাতে মুআক্কাদা। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- জামাআত হিদায়াতের পরিচায়ক সুন্নত, মুনাফিক ছাড়া কেউ তা থেকে পিছিয়ে থাকে না। ইমামতির জন্য সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তি হলেন যিনি সালাতের মাসাইল সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানী। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত, যিনি কিরাত সর্বোত্তম। কেননা সালাতে কিরাত অপরিহার্য। আর ইলমের প্রয়োজন হয় কোন ঘটনা দেখা দিলে। এর উত্তরে আমরা বলি, একটি রুকন আদায়ে আমরা কিরাতের মুখাপেক্ষী আর সকল রুকন আদায়ে আমরা ইলমের মুখাপেক্ষী।
জামাআত সুন্নাতে মুআক্কাদা। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- জামাআত হিদায়াতের পরিচায়ক সুন্নত, মুনাফিক ছাড়া কেউ তা থেকে পিছিয়ে থাকে না। ইমামতির জন্য সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তি হলেন যিনি সালাতের মাসাইল সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানী। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত, যিনি কিরাত সর্বোত্তম। কেননা সালাতে কিরাত অপরিহার্য। আর ইলমের প্রয়োজন হয় কোন ঘটনা দেখা দিলে। এর উত্তরে আমরা বলি, একটি রুকন আদায়ে আমরা কিরাতের মুখাপেক্ষী আর সকল রুকন আদায়ে আমরা ইলমের মুখাপেক্ষী। ইলমের (ক্ষেত্রে উপস্থিত) সকলে সমান হলে যিনি কিরাতে সর্বোত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- আল্লাহর কিতাব পাঠে সর্বোত্তম ব্যক্তি কাওমের ইমাম হবে। যদি এতে সকলে বরাবর হয় তাহলে সুন্নত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি (ইমাম হবে)। উল্লেখ্য যে, সে যুগে কিতাবুল্লাহ্ পাঠে উত্তম ব্যক্তিই সর্বাধিক জ্ঞানীও হতেন। কেননা, তাঁরা আহকাম ও মাসায়েলসহ কুরআন শিক্ষা করতেন। তাই হাদীছে কিতাবুল্লাহ্ পাঠে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের যুগে অবস্থা সেরূপ নয়, তাই আমরা (দীনী ইলমে) সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এ ক্ষেত্রে সকলে সমান হলে যিনি অধিকতর বয়োজ্যেষ্ঠ। কেননা নবী (সা.) আবূ মুলায়কার পুত্রদ্বয়কে বলেছিলেন- তোমাদের দুজনের মধ্যে যে বয়োজ্যেষ্ঠ সে-ই ইমামতি করে। তাছাড়া বয়োজ্যেষ্ঠকে আগে বাড়ালে জামাআতের সমাগম বর্ধিত হবে। দাসকে (ইমামতির জন্য) আগে বাড়ানো মাকরূহ। কেননা শিক্ষালাভের জন্য (সাধারণতঃ) সে অবসর পায় না। এবং বেদুঈন (ও গ্রাম্য) কে। কেননা, মূর্খতাই তাদের মাঝে প্রবল এবং ফাসিককে। কেননা, সে দীনী বিষয়ে যত্নবান নয়। এবং অন্ধকে কেননা, সে পূর্ণরূপে নাপাকি থেকে বেচে থাকতে পারে না। আর জারজ সন্তানকে। কেননা, তার পিতা (ও অভিভাবক)নেই, যে তার শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করবে। সুতরাং অজ্ঞতাই তার উপর প্রভাবিত হয়। তাছাড়া এদের আগে বাড়ানোর কারণে জনগণের মধ্যে ঘৃণা সৃষ্টি হয়। সুতরাং তা মাকরূহ। তবে যদি তারা আগে বেড়ে যায় তাহলে সালাত দুরুস্ত হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- তোমরা সালাত আদায় কর যে কোন নেককার ও বদকারের পিছনে।
ইমাম মুক্তাদীদের নিয়ে সালাত আদায় করতে দীর্ঘ করবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন-
যে ব্যক্তি কোন জামাআতের ইমামতি করে, সে যেন তাদের দুর্বলতম ব্যক্তির অবস্থা অনুযায়ী সালাত আদায় করে। কেননা, তাদের মধ্যে রোগী, বৃদ্ধ ও প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তি থাকতে পারে। স্ত্রী লোকদের এককভাবে জামাআত করা মাকরূহ। কেননা, তা একটি নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে মুক্ত নয়। আর সেটা হলো কাতারের মাঝে ইমামের দাঁড়ানো। সুতরাং মাকরূহ হবে, যেমন উলঙ্গদের জামাআতের হুকুম। তবে যদি তারা তা করে তাহলে ইমাম তাদের মাঝে দাড়াবে। কেননা, আইশা (রা.) অনুরূপ করেছেন।আর তার এই জামাআত অনুষ্ঠান ইসলামের প্রাথমিক অবস্থার সাথে সম্পর্কিত। তাছাড়া এজন্য যে, আগে বেড়ে দাড়ানোতে অতিরিক্ত প্রকাশ ঘটে। যে ব্যক্তি এক মুকতাদী নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে তাকে নিজের ডানপাশে দাঁড় করাবে। কেননা, ইবন আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদীছে আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) তাকেঁ মুক্তাদী করে সালাত আদায় করেছেন এবং তাকে নিজের ডান পাশে দাড় করিয়েছেন। আর সে ইমামের পিছনে দাড়াবে না। ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, মু্ক্তাদী তার পায়ের আংগুল ইমামের গোড়ালি বরাবর রাখবে। তবে প্রথম মতই যাহিরে রিওয়ায়াতের। অবশ্য যদি ইমামের পিছনে বা বামে দাড়িয়ে সালাত আদায় করে তাহলে জাইয হবে। তবে সুন্নাতের বিরোধিতার কারণে সে গুনাহগার হবে। আর যদি দুই ব্যক্তির ইমামতি করেন, তাহলে তিনি তাদের আগে দাড়াবেন। আর ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত যে, উভয়ের মধ্যখানে দাড়াবে। আর আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ (রা.) এরূপ করেছেন বলে বর্ণিত আছে। আমাদের দলীল এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) আনাস (রা.) ও তার ইয়াতীম ভাইকে নিয়ে সালাত আদায়ের সময় উভয়ের আগে দাড়িয়েছিলেন। সুতরাং এ হাদীছের দ্বারা উত্তম প্রমাণিত হয়, আর সাহাবীর আমল দ্বারা এরূপ দাড়ানো মুবাহ প্রমাণিত হয়।
পুরুষদের জন্য কোন নারী বা নাবালেগের পিছনে ইকতিদা করা জাইয নয়। স্ত্রী লোকের পিছনে জাইয না হওয়ার কারণ এই যে, নবী (সা.) বলেছেন- আল্লাহ্ যেমন তাদের পিছনে রেখেছেন, তেমনি তোমরাও তাদের পিছনে রাখ। সুতরাং তাদের (ইমামতির জন্য) আগে বাড়ানো জাইয নয়। আর নাবালেগের পিছনে জাইয না হওয়ার কারণ এই যে, সে নফল আদায়কারী। সুতরাং তার পিছনে ফরজ আদায়কারীর ইকতিদা জাইয হবে না। তবে তারাবীহ ও নিয়মিত সুন্নাত এর ক্ষেত্রে বালখ এর মাশায়েখগণ জাইয রেখেছেন আর আমাদের মাশায়েখগণ তা অনুমোদন করেননি। আবার কারো কারো তাহকীক অনুযায়ী সাধারণ নফলের ক্ষেত্রে ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (সা.) এর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে গ্রহণযোগ্য মত এই যে, কোন সালাতেই তাদের (ইমামতি) জাইয নয়। কেননা, নাবালেগের নফল বালেগের নফলের চেয়ে নিম্নমানের। কেননা, ইজমায়ী মতানুসারে সালাত ভংগ করার কারণে নাবালেগের উপর কাযা ধর্তব্য। আর দুর্বলের উপর প্রবলের ভিত্তি হতে পারে না। ধারণা-ভিত্তিক সালাত এর ব্যতিক্রম। কেননা, (ভঙ্গ হলে কাযা করতে হবে কিনা) এতে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং উদ্ভূত ধারণা (মুকতাদীর বেলায়) অস্তিত্বহীন বলে বিবেচিত। অবশ্য নাবালেগের পিছনে নাবালেগের ইকতিদার হুকুম ভিন্ন (অর্থাত্ জাইয) কেননা, উভয়ের সালাত সমমানের।
প্রথমে পুরুষে কাতার করবে। তারপর নাবালেগ ও তারপর স্ত্রী লোকেরা। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- তোমাদের প্রাপ্ত-বয়স্ক এবং জ্ঞানবানরা যেন আমার কাছাকাছি থাকে। আর যেহেতু নারী-পুরুষ এক সমানে দাড়ানো সালাত ভংগকারী; সুতরাং তাদের পশ্চাদবর্তিণী রাখা হবে। যদি স্ত্রীলোক পুরুষের পার্শে দাড়ায় আর উভয়ে একই সালাতে শরীক হয়, তাহলে পুরুষের সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে, যদি ইমাম স্ত্রী লোকের ইমামতির নিয়্যত করে থাকেন। আর সাধারণ কিয়াসের চাহিদা হল সালাত ফাসিদ না হওয়া। এবং এ-ই হল ইমাম শাফিঈ (র.) এর মত। স্ত্রীলোকটির সালাতের উপর কিয়াস অনুযায়ী; যেহেতু তার সালাত ফাসিদ হয় না। আর সূক্ষ কিয়াসের কারণ হলো আমাদের বর্ণিত হাদীছ, মশহূর শ্রেণীভূক্ত। আর সেই হাদীছে পুরুষকেই সম্বোধন করা হয়েছে, স্ত্রীলোককে নয়। সুতরাং পুরুষই হচ্ছে স্থানগত ফরজ বর্জনকারী। সুতরাং তার সালাতই ফাসিদ হবে, স্ত্রী লোকটির সালাত নয়। যেমন মুক্তাদী (এর সালাত ফাসিদ হয়) ইমামের আগে দাড়ালে। আর যদি ইমাম স্ত্রীলোকের ইমামতির নিয়্যত না করে থাকেন, তাহলে পুরুষটির সালাতের ক্ষতি হবে না; স্ত্রীলোকটির সালাত দুরস্ত হবে না। কেননা আমাদের মতে ইমামের নিয়্যত ছাড়া সে সালাতে শামিল হওয়া সাব্যস্ত হবে না। ইমাম যুফার (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। তুমি কি লক্ষ্য করছ না যে, স্থানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ইমামের কর্তব্য। সুতরাং তার দায়িত্ব গ্রহণের উপর বিষয়টি নির্ভর করবে। যেমন ইকতিদার ক্ষেত্রে (মুকতাদির জন্য ইমামের নিয়্যত করা জরুরী)।
তবে ইমামের নিয়্যত তখনই শর্ত হবে, যখন সে কোন পুরুষের পার্শ্বে ইকতিদা করে। পক্ষান্তরে যদি তার পাশে কোন পুরুষ না থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে। উক্ত দুটি মতের একটির ক্ষেত্রে পার্থক্যের কারণ এই যে, প্রথম সুরতে তো সালাত ফাসিদ হওয়া অনিবার্য। আর দ্বিতীয় সুরতে সম্ভাবনা যুক্ত। সালাত নষ্টকারী এক সমানে দাড়ানো এর জন্য শর্ত হলো (উভয়ের) সালাত অভিন্ন হওয়া এবং (রুকু-সাজদা বিশিষ্ট) সাধারণ সালাত হওয়া। আর স্ত্রীলোকটি কামোত্তেজনাযোগ্য হওয়া এবং উভয়ের মাঝে কোন আড়াল না থাকা। কেননা, কিয়াস ও যুক্তির বিপরীতে শরীআতের বাণী দ্বারা সালাত ফাসাদকারিণী প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং বাণী সংশ্লিষ্ট সকল উপস্থিত থাকতে হবে। স্ত্রী লোকদের জামাআতে হাযির হওয়া মাকরূহ। অর্থাত্ তাদের মধ্যে যারা যুবতী (তাদের জন্য এ হুকুম) কেননা তাতে ফতনার আশংকা রয়েছে। বৃদ্ধাদের জন্য ফরজ, মাগরিব ও ঈশার জামাআতের উদ্দেশ্য বের হওয়াতে অসুবিধা নেই। এ হল ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মত। ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, সকল সালাতেই তারা বের হতে পারে। কেননা, আকর্ষণ না থাকায় ফিতনার আশংকা নেই। তাই মাকরূহ হবে না, যেমন ঈদের জামাআতে। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হলো; প্রবৃত্তির (দুষ্কর্মে) উদ্বুদ্ধ করে থাকা। সুতরাং ফিতনা ঘটতে পারে। তবে যুহর, আসর ও জুমুআর সময় ফাসিকদের উপদ্রব থাকে। আর ফজর ও ঈশার সময় (সাধারণতঃ) তারা ঘুমিয়ে থাকে এবং মাগরিবে পানাহারে মশগুল থাকে। আর (ঈদের) মাঠ প্রশস্ত হওয়ার কারণে পুরুষদের থেকে পাশ কেটে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব। তাই মাকরূহ হয় না। ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, পবিত্র ব্যক্তি মুস্তাহাযা এর শ্রেণীভুক্ত ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। সেরূপ পবিত্র স্ত্রীলোকও মুস্তাহাযা এর পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা সুস্থ ব্যক্তির (তাহারাতের) অবস্থা মাযূর ব্যক্তির চেয়ে উন্নততর। আর কোন কিছু তার চেয়ে উন্নত কিছুর দায়িত্ব বহন করতে পারে না। আর ইমাম হচ্ছেন দায়িত্ব বহনকারী। অর্থাত্ মুক্তাদির সালাত তার সালাতের আওতাভূক্ত।
কুরআন পাঠে সক্ষম ব্যক্তি উম্মী লোকের পিছনে এবং বস্ত্রধারী ব্যক্তি উলংগ ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, তাদের দুজনের অবস্থা উন্নততর। আর জাইয রয়েছে তায়াম্মুমকারীর জন্য উযূকারীদের ইমামতী করা। এ হল ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মত। আর ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, জাইয হবে না। কেননা, তায়াম্মুম জরুরী অবস্থায় তাহারাত। আর পানি হল তাহারাতের মূল উপাদান। ইমাম আবূ হানীফা ও আবূ ইউসূফ (র.) এর দলীল এই যে, এটা (সাময়িক তাহারাত নয় বরং) সাধারণ তাহারাত। সুতরাং এ কারণেই তা প্রয়োজনের সাথে সীমিত থাকে না। (মোজায়) মাসহকারী পা ধৌতকারীর ইমামতি করতে পারে। কেননা, মোজা পায়ের পাতায় হাদাছ এর অনুপ্রবেশে বাধা দেয়। আর মোজায় যে হাদাছ যুক্ত হয়, সেটাকে মাসহ দূর করে দেয়। মুস্তাহাযার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। কেননা বাস্তবে হাদাছ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় শরীআত তা বিদূরিত হয়ে গেছে বলে গণ্য করে। দাড়িয়ে সালাত আদায়কারী বসে সালাত আদায়কারীর পিছনে (ইকতিদা করে) সালাত আদায় করতে পারে। ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, তা জাইয হবে না। কিয়াসের দাবী এ-ই। কেননা, দাড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অবস্থা উন্নততর।
আমরা হাদীছের কারণে কিয়াস বর্জন করেছি। কেননা, বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) তার শেষ সালাত আদায় করেছেন আর লোকজন তার পিছনে দাড়িয়ে ছিলেন। ইশারায় সালাত আদায়কারী অনুরূপ ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করতে পারে। কেননা, উভয়ের অবস্থা সমান। তবে যদি মুকতাদী বসে এবং ইমাম শুয়ে ইশার করে তবে তার পিছনে জাইয হবে না। কেননা, বসা শরীআতে স্বীকৃত। সুতরাং এর দ্বারা তা উন্নত হওয়া প্রমাণিত হয়। রুকু-সাজদাকারী ব্যক্তি ইশারাকারী ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, মুকতাদীর অবস্থা উন্নততর। এ সম্পর্কে ইমাম যুফার (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। ফরজ আদায়কারী নফল আদায়কারী ভিন্ন ফরজ আদায়কারী ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, ইকতিদা অর্থ ভিত্তি করা, আর এখানে ইমামের ক্ষেত্রে ফরজ গুণটি নেই। সুতরাং যে গুণ নেই, তার উপর ভিত্তি স্থাপিত হবে না। ইমাম কুদূরী বলেন এক ফরজ আদায়কারী ভিন্ন ফরজ আদায়কারী ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, ইকতিদা হলো (একই তাহরীমায়) শামিল হওয়া এবং সামঞ্জস্য রক্ষা করা। সুতরাং (সালাতে) অভিন্নতা অপরিহার্য। ইমাম শাফিঈ (র.) এর মতে উপরোক্ত সকল ক্ষেত্রে ইকতিদা সহীহ। কেননা, তার মতে ইকতিদা হল সমন্বিত রূপে আদায় করা। আর আমাদের মতে দায়িত্বের অন্তর্ভুক্তির অর্থ বিবেচ্য।
নফল আদায়কারী ফরজ আদায়কারীর পিছনে সালাত আদায় করতে পারে। কেননা, নফল আদায়কারীর জন্য শুধু মূল সালাত থাকাই হল প্রয়োজন। আর ইমামের ক্ষেত্রে মূল সালাত বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং এর উপর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। যে ব্যক্তি কোন ইমামের পিছনে ইকতিদা করলো তারপর জানতে পারলো যে, তার ইমাম হাদাছগ্রস্ত; তখন তাকে সালাত দোহরাতে হবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি কোন জামাআতের ইমামতি করলো, তারপর প্রকাশ পেল যে, সে হাদাসগ্রস্ত অথবা জুনুবী, তখন সে নিজেও সালাত দোহরাবে এবং মুকতাদিরাও দোহরাবে। এ বিষয়ে ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। পূর্ব বর্ণিত যুক্তির ভিত্তিতে। আর আমরা অন্তর্ভূক্তির মর্ম বিবেচনা করি। আর তা জাইয হওয়া ও ফাসিদ হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজ্য হবে। কোন উম্মী ব্যক্তি যখন কুরআন পাঠে সক্ষম একদল লোক এবং উম্মী একদল লোকের ইমামতি করে, তখন ইমাম আবূ হানীফা (র.)এর মতে সকলের ফাসিদ হয়ে যাবে। ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, ইমামের সালাত এবং যারা কুরআন পাঠে সক্ষম নয়, তাদের সালাত পূর্ণাংগ হয়েছে। কেননা, ইমাম নিজে মাযূর এবং তিনি একদল মাযূর লোকের ইমামতি করেছেন। সুতরাং এটি ঐ অবস্থার সদৃশ, যখন কোন উলংগ ব্যক্তি একদল উলংগ ও একদল বস্ত্রধারীর ইমামতি করেন।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল এই যে, ইমাম কিরাতের উপর সক্ষমতা সত্ত্বেও কিরাতের ফরজ তরক করেছে। সুতরাং তার সালাত ফাসিদ হবে। সক্ষমতার কারণ এই যে, সে যদি কারীর পিছনে ইকতিদা করতো তাহলে কারীর কিরাত তার কিরাত হতো। আর ঐ মাসআলাটি এবং এর অনুরূপ মাসআলার হুকুম ভিন্ন। কেননা, ইমামের ক্ষেত্রে যা বিদ্যমান, তা মুকতাদীর ক্ষেত্রে বিদ্যমান রূপে গণ্য হবে না। যদি উম্মী ও কারী একা একা সালাত আদায় করে, তাহলে তা জাইয হবে। এই বিশুদ্ধমত। কেননা,তাদের উভয় থেকে জামাআতের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ পায়নি। ইমাম যদি প্রথম দুই রাকাআতে কিরাত পাঠ করে, অতঃপর শেষ দুই রাকাআতে কোন উম্মীকে (নায়িব হিসাবে) আগে বাড়িয়ে দেয়, তাহলে সকলের সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে। ইমাম যুফার (র.) বলেন, সালাত ফাসিদ হবে না। কেননা, কিরাতের ফরজ আদায় হয়ে গেছে। আমাদের দলীল এই যে, প্রতিটি রাকাআতই সালাত। সুতরাং তা কিরাত থেকে খালি হতে পারে না। বাস্তবে হোক কিংবা গণ্য করা হিসাবে হোক। আর উম্মীর ক্ষেত্রে যোগ্যতা না থাকার কারণে কিরাতকে বিদ্যমান গণ্য করার অবকাশ নেই। উক্ত দলীলের ভিত্তিতে অনুরূপ মতপার্থক্য রয়েছে। তাশাহুদের সময় তাকে আগে বাড়ালেও। সঠিক বিষয় আল্লাহই অধিক জানেন।



Post a Comment

0 Comments