রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর স্বপ্নে দেখা জাহান্নামের বিস্তারিত বর্ণনা


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর স্বপ্নে দেখা জাহান্নামের বিস্তারিত বর্ণনা 




হযরত সামুরা ইবনে যন্দুক (রা) হাদিস বণনা করেন। যেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম অধিকাংশ সময়ই তাজার সাহাবীদের জিজ্ঞেস করিতেন, তোমাদের মধ্যে কেউই কখনো করে স্বপ্ন দেখেছে। যদি কখনো কেও স্বপ্ন দেখে থাকতো তাহলে তো বর্ণনা করতাম।

একদিন সকালবেলা নবী (সা)এরশাদ করলেন রাএি বেলা আমি স্বপ্ন দেখিলাম যে দুই জন ফেরেশতা আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে উঠাইয়া বলিলেন আমাদের সাথে চলুন আমি তাহাদের সাথে চলিলাম। অতপর একজন সাহিত  ব্যক্তিক নিকট হতে অতিক্রম করিলাম। তাহার পাশে পাথর হাতে এক ব্যক্তি দারিয়ে আছে সে সাহিত্য ব্যক্তির মাথার উপরে পাথর টি সজরে নিক্ষেপ করে ইহাতে তাহার মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এবং পাথর দিয়ে গড়ায়া অন্য দিকে চলে যায় উক্ত ব্যক্তিটি পাথরটা আবার উঠাইয়া  আনে।তার ফিরে আসার পূর্বেই শায়িত ব্যক্তির মাথা আগের মত ঠিক হয়ে যায় পুনরায় সে পাথর নিক্ষেপ করে এবং পূর্বের নাই  মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। আমি অবাক হয়ে সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলাম, সুবহানাল্লাহ এই দুই ব্যক্তি কে। কেনো তারা এমন করিতেছে তাহার আমাকে বলিলেন সামনে চলুন আমরা সামনে চলিলাম।

অর্থাৎ আমরা চিৎ হয়ে শায়িত এক ব্যক্তির নিকট অতিক্রম করিলাম এক ব্যক্তি তাহার নিকট লোহার চিমটা হাতে দাঁড়িয়ে আছে চিমটা ধারি ব্যক্তি টি শায়িত ব্যক্তির চেহারার এক পাশে আসিয়া তাহার চোয়াল চোখ মুখ নাক মাথার পেছনর আংশ পর্যন্ত চিড়িয়া ফেলে তারপর অন্য পাশে একি হালত দ্বিতীয় পাস অপসার হয়ে আসার পূর্বেই তার প্রথম অংশটি সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায় সে ব্যক্তি এরম করিতে থাকে আমি তাহাদের দুজনকে বলিলাম সুবহানাল্লাহ এই ব্যক্তিরা কারা কেন তাহার এমন করিতেছ তাহার আমাকে বলিলেন চলুন সামনে চলুন।

আমরা সামনে চলিলাম  তখন একটি তন্দুর নিকট পৌছাইলাম ওহাতে অনেক শোরগোল হচ্ছিলো আমি উকি দিয়ে দেখছিলাম  ওহাতে অনেক উলঙ্গ  পরুষ ও মহিলা ছিলো য়াহাদের নিচের হইতে একটি অগ্নি শিখা আসতেছ এবং সেই অগ্নি শিখা যখন তাঁহাদের ছরায়া ধরে তাহার চিৎকার করিতে থাকে আমি তাহাদের জিজ্ঞেস করলাম, হে বন্ধুণন কাহারা এরা কেনই বা এমন করিতেছে তাহার আমাকে বলিলেন সামনে চলুন আমরা সামনে চলিলাম আমরা সামনে চলিলাম

একটি নদীর নিকট পৌছাইলাম ওহাতে রক্তের মত লাল বণ ছিলো আর ওহাতে এক ব্যক্তি সাতার কাটছিল নদীর কিনারে এক ব্যক্তি দারিয়ে ছিলেন  তাহার পাশে অনেক গুলী পাথর জমা ছিলো সাতার কারি লোখটি য়খন সাঁতরাইয়া পাথর জমা কারী লোখটির নিকট ফিরিয়া অাসে তখন সে মুখ খুলিয়া দেয় কিনারাই অপেক্ষা মান ব্যক্তি তাহার মুখে ভিতর পাথর নিক্ষেপ করে এবং ইহাতে সে অনেক দূর চলিয়া যায় পূনরাই সে  সাঁতরাইয়া পাথর জমা কারী লোখটির নিকট ফিরিয়া অাসে তখন সে মুখ খুলিয়া দেয় এবং সেই ব্যক্তি পাথর নিক্ষেপ করে এবং পূবের ন্যয় সমূদের মধ্যবর্তী স্থানে  চলে য়াই  আমি জিজ্ঞাস করিলাম   সুবহানাল্লাহ কাহারা এরা কেনই বা এমন করিতেছে  আমাকে বলাহল সামনে চলুন আমরা সামনে চলিলাম। 

তোমরা যত কুচ্ছিত চেহারার মানুষ দেখেছো। তাহার থেকে অধিক তর কুৎসিত চেহারার মানুষদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করিলাম তাদের চেহারা আগুনে জ্বলছিলো সে ওহাক আরো প্রজ্বলিত করছিল উহার চতুর্দিকে দৌড়াইতে ছিল।
আমি তাহাদের জিজ্ঞেস করলাম কে এই ব্যক্তি কেনই বা তিনি এই আগুনকে প্রজ্জ্বলিত করছিলেন তাহার আমাকে বলিলেন চলুন সামনে চলুন 

অতঃপর আমরা এমন এক বাগানে পৌঁছাইলাম যাহা ঘনসবুজ ছিল উহাতে বসন্তকালীন সব রকমের ফুল ছিল বাগানের মাঝখানে অতি দীর্ঘকায় এক ব্যক্তিকে দেখা গেল অতি দীর্ঘকায় হওয়ায় তার মাথা দেখা আমার জন্য কষ্টকর ছিল তাহার চারিপাশে অনেক শিশু ছিল এত বেশি শিশু ছিল যা আমার জন্য গোনা অসম্ভব ছিল। এবং আমি কখনোই এমনটি দেখিনি আমি জিজ্ঞেস করলাম ইনি কে আর এই শিশুরাই বা কারা তার আমাকে বললেন চলুন সামনে চলুন


আমরা চলিলাম এবং একটি বড় বাগান  নিকট পৌছালাম আমি এত বড় বাগান এত সুন্দর বাগান আগে কখনোই দেখিনি তারা আমাকে বলিলেন ইহার উপরে চরুন আমি ওহতে চরিলাম এমন সময় একটি শহরের নিকট পৌছাইলাম শহরটি  এমনভাবে বানানো হয়েছিল উহার একটি ইট ছিল সোনার ও একটি ছিল রুপার আমরা শহরের দরজায় পৌছালাম এবং দরজা খুলিয়া দিতে বলিলাম আমাকে দরজা খুলিয়া দেয়া হলো আমরা ওহাতে এমন কিছু লোকের সাথে সাক্ষাৎ করিলাম যাহাদের শরীরের অর্ধেক অংশ এত সুন্দর ছিল য়া আমি আগে কখনই দেখিনি। আর অর্ধেক অংশ এতটাই কুৎসিত ছিল যা আমি আগে কখনো দেখিনি । এইদুই ব্যক্তিকে ফেরেস্তারা বলিলেন যাও এই নদীতে ঝাঁপ দাও আমি দেখিলাম সামনে একটি প্রশস্ত প্রবাহিত  হয়ে যাচ্ছে ওহাল পানি দুধের মত সাদা তাহারা ওহাতে ছাপ দিয়ে পরিল অতঃপর তারা যখন আমাদের নিকট ফিরে আসিলো তখন তাহাদের কুৎসিত চেহারা সুন্দর হইয়া গেছে তারা এমন সৌন্দর্য হয়ে গেছে যা আগে কখনো আমি দেখিনি। ওই ফেরেশতা আমাকে বলিলেন।  ইহার জান্নাতে আদন ইহা আপনার ঘর। উপরের দিকে আমার দৃষ্টি পরিলে আমি দেখিলাম সাদা মেঘের মতো একটি মহল দেখিতে পাইলাম। তারা অমাকে বলিলেন ইহা আপনার ঘর। আমি তাহাদের বলিলাম আল্লাহ তোমাদের বরকত দান করূক আমাকে ছারিয়া দাও।

আমি আমার ঘরে প্রকাশ করিব তাহার বলিলেন এখন নয়। তবে আপনি অবশ্যই প্রবেশ করিবেন। আমি তাহাদের বলিলাম আমি আজ রাতে আশ্চর্যজনক বিষয় দেখেছি ইহার রহস্য কি?

আমি তাহাদের কে বলিলাম আমি ইহার  বিস্তারিত বলছি।

প্রিয় সুধী তখন দুজন ফেরেশতা বর্ণনা করলেন প্রথম ব্যক্তি য়াহার নিকট দিয়ে আপনি অতিক্রম করিয়া আছেন এবং তাহার মাথা পাথর দ্বারা চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হচ্ছিল এহা হলো সেই ব্যক্তি   যে কোরআন শিক্ষা করার পর ভুলিয়া গেছে, কোরআন তেলাওয়াত কে সারিয়া দিচ্ছে আর ফরজ নামাজ ছাড়িয়া ঘুমাইয়া পড়ে।

দ্বিতীয়  ওই ব্যক্তি যার নিকট দিয়ে আপনি অতিক্রম করিযাছেন যাহার চুয়াল নাক-মুখ কাটা হচ্ছিল লোহার চিম্টা দ্বারা সে ঐ ব্যক্তি সকাল হলে ঘর হইতে বাড়িয়া মিথ্যা কথা বলি তো এবং তাহার মিথ্যা সকল দুনিয়া প্রসারিত হয়ে যায় 

তৃতীয় ওই ব্যক্তি ওই মেয়ে পুরুষ যাদের আপনি তন্দুরে জ্বলতে দেখেন তারা হলো জেনাকার পুরুষ এবং মহিলা 

চতুর্থ ঐ ব্যক্তি আপনি অতিক্রম করেছেন যে নদীতে সাঁতরাইতে ছিল এবং তাহার মুখে পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছিল সে সুদ খোর দুনিয়াতে সে সুদ ভক্ষণ করে তো।

 পঞ্চম ওই ব্যক্তি কুৎসিত ব্যক্তির নিকট দিয়ে যে আপনি অতিক্রম করেছেন য়িনি আগুনকে প্রজ্জ্বলিত করছিল এবং তার চারিপাশ দৌড়াইতে ছিল  তিনি জাহান্নামের দারোগা জাহান্নামের দারোগা যার নাম  মালেক

ছষ্টম ওই ব্যক্তি  যিনি বাগানের মধ্যে ছিলেন তিনি হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু সালাম। আর তাহার পাশের যে শিশুদের দেখিয়েছিলেন তাহারা শৈশবে ইসলামের সিফাতের উপর মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
কোন কোন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ মুশরিকদের শিশুদের কি হবে তিনি এরশাদ করিলেন মুশরিকদের শিশুরাও তাহারাও ছিলো এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে 

আর যাদের শরীর অর্ধেক সুন্দর ও অর্ধেক কুৎসিত  ছিল তারা ঐ সমস্ত লোক যারা নেক আমলের শহীত বদ আমল করিয়া ছিল আল্লাহতালা তাদের গুনা কে ক্ষমা করে দিয়ে তাদেরকে  চিরস্থায়ী জান্নাতে দাখিল অনুমতি দিয়েছিল।

প্রিয় সুধী এ হাদিস থেকে আমাদের জিন্দেগী অনেক কিছু শিক্ষনীয় রয়েছে যেনো অনুধাবন করার তৌফিক আল্লাহ দান করেন। 

Post a Comment

0 Comments