বেহেস্তের পোষাক, খাদ্য, পাহাড় পর্বত বর্ণনা

বেহেস্তের পোষাক, খাদ্য, পাহাড় পর্বত- ইত্যাদি



(১) জান্নাতীদের পোষাক, পানীয়, স্বর্ন রৌপ্যের পানপাত্র, ইত্যাদির বর্ণনা-
عن ابی ھریرۃ رضی اللّٰہ عنہ عن النبی ﷺ انہ قال من لبس الحریر فی الدنیا لم یلبسہ فی الاٰخرۃ ۔ ومن شرب الخمر فی الدنیا لم یشربہ فی الاٰخرۃ۔ ومن شرب فی آنیۃ الذھب والفضۃ لم یشرب بھا فی الاٰخرۃ ثم ۔قال رسول اللّٰہ ﷺ لباس اھل الجنۃ۔ وشراب اھل الجنۃ وانیۃ اھل وآنیۃ اھل الجنۃ۔ رواہ النسائی۔

অর্থঃ হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- “যেব্যক্তি দুনিয়াতে রেশমী পোষাক পরিধান করে- তাকে জান্নাতে রেশমী পোষাক পরিধান করতে দেয়া হবে না। যেব্যক্তি দুনিয়াতে শারাব পান করে, তাকে জান্নাতে শারাবান তাহুরা পান করতে দেয়া হবে না। যেব্যক্তি দুনিয়াতে স্বর্ন ও রৌপ্যের পাত্রে পানি পান করে- তাকে জান্নাতে স্বর্নরৌপ্যের পানপাত্র দেয়া হবে না। অতঃপর রাসুলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংক্ষেপে ইরশাদ করলেন- “জান্নাতীদের পোষাক, জান্নাতীদের শারাবান তাহুরা এবং জান্নাতীদের পানপাত্র ঐরকম” (নাছায়ী শরীফ)।

ব্যাখ্যাঃ উক্ত লোকেরা জান্নাতে প্রাথমিক প্রবেশাধিকার পাবেনা- যদি তাওবাহ করে তা থেকে বিরত না থাকে। এই তিন জিনিস দুনিয়াতে পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে। তবে মহিলাদের জন্য রেশমী পোষাক ও স্বর্ন রৌপ্য ব্যবহার করা জায়েয করা হয়েছে- অন্য হাদীস দ্বারা।

(২) জান্নাতের বৃক্ষরাজী
عن ابی ھریرۃ رضی اللّٰہ عنہ قال قال رسول اللّٰہ ﷺ یقول اللّٰہ عزوجل اعدت لعبادی الصالحین ما لا عین رأت ولا اذن سمعت ۔ ولا خطر علی قلب بشر ۔ اقرأوا ان شئتم ’’وظل ممدود‘‘ وموضع سوط فی الجنۃ خیر من الدنیا وما فیھا ۔ واقرأوا ان شئتم ’’ فمن زحزح عن النار وادخل الجنۃ فقد فاز ۔ وما الحیوۃ الدنیا الا متاع الغرور۔‘‘ حدیث حسن صحیح۔ رواہ الترمذی۔

অর্থঃ হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন- রাসুলপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-“আল্লাহ্পাক ইরশাদ করেছেন- “আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন এমন জিনিস তৈরী করে রেখেছি- যা কোন চক্ষু কোনদিন দেখেনি, কোন কান কোনদিন শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে তার ধারণা পর্য্যন্ত জন্মায়নি”। যদি তোমরা ইচ্ছা করো- তাহলে আল্লাহর এই কালাম পড়ে দেখো- “কেহই জানেনা- তার জন্য চক্ষু শীতলকারী কি কি জিনিস লুক্বায়িত রয়েছে”। (সূরা সিজদা ১৭ আয়াত ২১ পারা)। আর জান্নাতের মধ্যে এমন বিশাল বৃক্ষ রয়েছে- কোন সাওয়ারী একশত বৎসর যার ছায়ায় ভ্রমন করলেও তার শেষ সীমান্তে পৌঁছতে পারবে না। যদি ইচ্ছা করো- আল্লাহর এই কালাম পাঠ করে দেখো- “সুবিস্তৃত ছায়ায় তারা বসবাস করবে” (সূরা ওয়াকেয়াহ ৩০ আয়াত ২৭ পারা)। জান্নাতের এক চাবুক পরিমান জায়গা দুনিয়া এবং দুনিয়ার যাবতীয় বস্তু হতে উত্তম। ইচ্ছা করলে আল্লাহর এই কালাম পড়ে দেখো- “অতঃপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে- সে ব্যক্তিই সফলকাম হবে। দুনিয়ার পার্থিব জীবন ধোকার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়”। (সূরা আলে ইমরান- ১৮৫ আয়াতাংশ)। তিরমিযি শরীফ। আবু ইছা তিরমিযি বলেন- অত্র হাদিসখানার মর্যাদা হলো হাছান লি যাতিহী ও সহীহ লিগায়রিহী পর্যায়ের।

(৩) বেহেস্তের সর্ববৃহৎ বৃক্ষ হবে তূবা
عن ابی امامۃ الباھلی قال : طوبی شجرۃ فی الجنۃ لیس منھا دار الا فیھا غصن منھا ولا طیر حسن الا وھو فیھا۔ ولا ثمرۃ الا وھی فیھا۔
অর্থঃ হযরত আবু উমামা বাহেলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- “তূবা” নামে জান্নাতে একটি বৃহৎ বৃক্ষ আছে। জান্নাতে এমন কোন বাড়ী নেই- যেখানে ঐ বৃক্ষের শাখা নেই, এমন কোন সুন্দর পাখী নেই- যা ঐ বৃক্ষের ডালে বসা নেই এবং এমন কোন ফল নেই- যা ঐ বৃক্ষে ফলেনা”। (ইবনে ওহাব সুত্রে তাযকিরাহ্ ৪৯৫ পৃষ্ঠা)। এক বৃক্ষে সহস্র রকমের ফল।

(৪) জান্নাতীবৃক্ষের কান্ড হবে স্বর্নের
عن ابی ھریرۃ رضی اللّٰہ عنہ قال قال رسو ل اللّٰہ ﷺ ما فی الجنۃ شجرۃ الا وساقھا من ذھب۔ رواہ الترمذی۔
অর্থঃ হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) রাসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী এভাবে বর্ণনা করেছেন-- “জান্নাতের যেকোন বৃক্ষের কাণ্ড বা গোড়ার দিকটি হবে স্বর্নের” (তিরমিযি শরীফ)।

(৫) ছিদ্রাতুল মোন্তাহা বৃক্ষ
عن اسماء بنت ابی بکر قالت سمعت رسول اللّٰہ ﷺ وذکر لہ سدرۃ المنتھی قال یسیر الراکب فی ضل الفنن منھا مأۃ سنۃ او یستظن بظلھا ماءۃ راکب شک الراوی فیھا۔ رواہ الترمذی۔

অর্থঃ হযরত আস্মা বিন্তে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে ছিদ্রাতুল মোন্তাহা বৃক্ষের আলোচনা হচ্ছিল। আমি শুনেছি- নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করলেন- “ঐ বৃক্ষ এত বিরাট যে, তার চতুর্দিকে ঘুরে আসতে একজন ঘোড়সাওয়ারীর একশত বৎসর লাগবে। (অথবা তিনি এরূপ বলেছিলেন) “তার ছায়ায় একশত ঘোড় সাওয়ারী একসাথে দৌঁড়াতে পারবে। ” (তিরমিযি শরীফ)।

নোটঃ সিদ্রাতুল মোন্তাহা হলো সপ্তম আকাশের উপরে অবস্থিত। সুতরাং জান্নাতেরও উপরে। আরশের নীচে উক্ত বিশাল বৃক্ষে জিবরাঈল (আ:) বসবাস করেন- এবং এখান থেকেই আল্লাহর নির্দেশ গ্রহণ করেন। শহীদ ও মুমিনগণের রূহ্ সিদ্রাতুল মোন্তাহা নামক বরই গাছে ভ্রমণ করে ফল ফলাদী ভক্ষণ করে থাকে। নবী করীম (ﷺ) মি’রাজ রজনীতে ঐ বৃক্ষের নিকট থেকেই রফরফে আরোহন করে আরশে মোয়াল্লায় গমন করেছিলেন। ঐদিন আসমান, যমিন, জান্নাত, জাহান্নাম, আরশ, কুরছি, জ্বীন, ইনসান ও মালায়েক সবকিছু ছিল নবীজীর কদমের নীচে। ইহার নামই “রিফ্আতে শানে মোহাম্মদ” (ﷺ)।

(৬) জান্নাতের ফলফলাদি

(ক) আল্লাহ্পাক ইরশাদ করেন- 
فِيهِمَا مِن كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ
অর্থঃ “ঐ দুই জান্নাতে আছে প্রত্যেক ফলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ ও স্বাদ”। (সুরা আর রহমান ৫২ আয়াত)।

(খ) আল্লাহ্পাক ইরশাদ করেন-
فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ
অর্থঃ “তথায় আছে ফলমূল, খেজুর ও আনার” (সুরা আর রহমান ৬৮ আয়াত)।

(গ) আল্লাহ্পাক আরো বলেন-
مُتَّكِئِينَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ
অর্থঃ “তারা তথায় রেশমের আস্তর বিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। উভয় জান্নাতের (উদ্যানের) ফল তাদের নিকট ঝুঁক্বে”। (সূরা আর রাহমান ৫৪ আয়াত)।

(ঘ) আল্লাহ্ আরো ইরশাদ করেন-
كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقاً قَالُواْ هَـذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ وَأُتُواْ بِهِ مُتَشَابِهاً
অর্থঃ “যখনই জান্নাতীগণ খাবার হিসাবে কোন ফলপ্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে- এ তো অবিকল সে ফল- যা আমরা ইতিপূর্বে লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই আকৃতির পরিচিত ফল প্রদান করা হবে”। (কিন্তু স্বাদ হবে ভিন্ন)। (সুরা বাক্বারা আয়াত ২৫)।

(ঙ) জান্নাতের আঙ্গুর ফল হুযুর (ﷺ) -এর পবিত্র মুঠির মধ্যে-
ذکر مسلم من حدیث ابن عباس فی صلاۃ الکسوف قالوا یارسول اللّٰہ رأیناک قناولت فی مقامک یشأ ثم رأیناک تکعکعت۔ فقال: انی رأیت الجنۃ فتناولت منھا عنقودا۔ ولو اخذتہ لاکلتم منھا مابقیت الدنیا۔

অর্থঃ ইমাম মুসলিম সূর্য গ্রহণে (সালাতুল কুছুফ) অধ্যায়ে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) -এর একটি হাদীস এভাবে বর্ণনা করেছেন- “সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা নামাযের মধ্যে দেখতে পেলাম- আপনি আপনার মোসাল্লায় দাঁড়িয়ে কি যেন হাত দিয়ে ধরেছেন। এরপর দেখলাম- আপনি মুঠি ছেড়ে দিয়ে পিছনে হটে আসলেন। রাসুল মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন- “আমি নামাযরত অবস্থায় জান্নাতকে নিকটে দেখতে পেলাম। অতঃপর আমি হাত বাড়িয়ে কিছু আঙ্গুর ফলের থোকা ধরলাম। আমি যদি ঐ থোকা ছিঁড়ে নিয়ে আসতাম- তাহলে তোমরা দুনিয়ার শেষদিন পর্য্যন্ত তা থেকে খেতে পারতে”। (তাযকিরাহ্ ৪৯৪ পৃষ্ঠা)।

ব্যাখ্যাঃ অত্র হাদীস থেকে বুঝা গেল- জান্নাত হুযুর (ﷺ) -এর হাতের নাগালের মধ্যে। তিনি মদিনায়- কিন্তু তাঁর হাত মোবারক জান্নাতে। আরো বুঝা গেল- তিনি হাতের মুঠোয় যে থোকাটি ধরেছিলেন- তা থেকে কিয়ামত পর্য্যন্ত সবাই মিলে খেলেও তা ফুরাতো না। বুঝাগেল- হুযুরের এক মুষ্ঠিতে সারা দুনিয়ার মানুষের খাদ্য ও সম্পদ মৌজুদ রয়েছে। একেই বলে- “খোদার রাজ্যে নবীজীর রাজত্ব ও কর্তৃত্ব বা “সালতানাতে মোস্তফা”। আরেকটি বিষয় হলো- জান্নাত হুযুরের কাছে আসে। সুব্হানাল্লাহ্।

(৭) জান্নাতের নহর ও সাগর সমূহঃ

(৭-ক) আল্লাহ্পাক ইরশাদ করেন- জান্নাতের নহর ৪ টি
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّن مَّاء غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِن لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى

অর্থঃ “মুত্তাকীনদের জন্য যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তাতে আছে পানির নহর, দুধের নহর- যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধূর নহর সমূহ”। (সুরা মুহাম্মদ ১৫ আয়াত)। এই ৪ প্রকারের নহর জান্নাতুল ফিরদাউস হতে প্রবাহিত এবং হাউযে কাউসারে পতিত। (ইবনে মাজাহ্-আবু হোরায়রা সুত্রে)।

(৭-খ) নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন- জান্নাতে ৪ প্রকার সাগর আছে।
ان فی الجنۃ بحر من الماء ۔ وبحر اللبن وبحر العسل وبحر الخمر ۔ ثم تنشق الانھار بعد ذلک۔
অর্থঃ “বেহেস্তের মধ্যে চার প্রকার সাগর আছে। পানির সাগর, দুধের সাগর, মধূর সাগর, পবিত্র শরাবের সাগর। অন্যান্য নহরসমূহ তা থেকে পৃথক হয়েছে”। (তিরমিযি শরীফ)।

(৮-ক) জান্নাতে প্রদর্শনী বাজার
عن علی رضی اللّٰہ عنہ قال قال رسول اللّٰہ ﷺ ان فی الجنۃ لسوقا ۔ ما فیھا شری ولا بیع الا الصور من الرجال۔ والنساء ۔ فذا اشتھی الرجل صورۃ ۔ دخل فیھا ۔ رواہ الترمذی۔
অর্থঃ “হযরত আলী (রাঃ) বর্ণনা করেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- জান্নাতে প্রদর্শনী বাজার বসবে। ঐ বাজারে কোন বেচাকেনা হবে না। শুধু নরনারীদের মিলনমেলা এবং বিভিন্ন জিনিস পত্রের নমুনা দেখানো হবে সেখানে। যখনই কোন লোক কোন নমুনা দেখতে ইচ্ছে করবে, তাতে প্রবেশ করে তা দেখতে পারবে” (তিরমিযি)। (৪১ অধ্যায় (১৭) দেখুন)।

(৮-খ) হযরত আবু হোরায়রা ও সায়ীদ ইবনে মুসাইয়েব জান্নাতের সাপ্তাহিক বাজারে পরস্পর মোলাকাত করবেন। ঐ বাজারেই আল্লাহর দীদার লাভ হবে
عن سعید بن المسیب انہ لقی ابا ھریرۃ فقال ابو ھریرۃ اسأل اللّٰہ ان یجمع بینی وبینک فی سوق الجنۃ فقال سعیک افیھا سوق ؟ قال نعم اخبرنی رسول اللّٰہ ﷺ ان اھل الجنۃ ازا دخلوھا ۔نزلوا فیھا ۔ بجل اعمالھم ۔ ثم یؤذن لھم فی مقدار یوم الجمعۃ من ایام الدنیا فیزورون ربھم ویبرز لھم عرشہ ویتبذر لھم فی روضۃ من ریاض الجنۃ ۔ فیوضع۔ لھم منابر من نور۔ ومنابر من لؤلؤ ۔ ومنابر من یقوت ۔ ومنابر من زبر جد ۔ ومنابر من ذھب ۔ ومنابر من فضۃ ۔ ویجلس ادناھم ۔ وما فیھم دنی علی کثبان المسک والکافور ما یرون ان اصحاب الکراسی بافضل منھم مجلسا ۔ قال ابو ھریرۃ قلت یا رسول اللّٰہ ھل نری ربنا؟ قال نعم ھل تتمارون فی رؤیۃ الشمس (فی نھار) والقمر لیلۃ البدر؟ قلنا لا قال کذلک لا تمارون فی رؤیۃ ربکم۔ ولا یبقی فی ذلک المجلس رجل الا حاضرہ اللّٰہ محاضرۃ ۔ حتی یقول للرجل منھم ۔ یا فلان بن فلان اتذکر یوم قلت کذا وکذا؟ فیذکر بعض عذر اتہ فی الدنیا ۔ فیقول یا رب افلم تغفرلی؟ فیقول بلی فبسعۃ مغفرتی بلغت منزلتک ھذہ فبینما ھم علی زلک غشیتھم سحابۃ من فوقھم فامطرت علیھم طیبا لم یجدوا مثل ریحہ شیا قط ویقول ربنا قوموا الی ما اعدت لکم من الکرامۃ فخذوا ما اشتھیتم ۔ فتاتی سوقا قدحفت بہ الملائکۃ فیھا مالم تنطر العیون الی مثلہ ولم تسمع الاٰذان ولم یخطر علی القلوب فنحمل لنا ما اشتھینا ۔ لیس یباع فیھا ولا یشتری ۔ وفی ذلک السوق یلقی اھل الجنہ بعضھم بعضا الخ۔

অর্থঃ হযরত সায়ীদ ইবনে মুসাইয়েব (তাবেয়ী) হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) -এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) তাঁকে বল্লেন- আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি- যেন তিনি তোমাকে ও আমাকে বেহেস্তের সাপ্তাহিক বাজারে মোলাকাত করান। হযরত সায়ীদ (রাঃ) বল্লেন- বেহেস্তে কি বাজার থাকবে? হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বল্লেন- হাঁ থাকবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এ সংবাদ দিয়েছেন যে, জান্নাতী লোকেরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে- তখন তাঁরা তাঁদের আমল অনুপাতে মাহফিলে অবস্থান করবে। তারপর দুনিয়ার জুমার দিনের মত সময়ের জন্য সাপ্তাহিক একদিন তাঁদেরকে একত্রিত করা হবে। তাঁরা তথায় আল্লাহর দীদার লাভ করবে। আল্লাহ্পাক তাঁদের মাথার উপর আরশ প্রকাশ করবেন এবং তাঁদেরকে বেহেস্তের বাগানে উত্তম পোষাক প্রদান করা হবে। তাঁদের প্রত্যেকের জন্য নূরের মিম্বার, লুলু পাথরের মিম্বার, ইয়াকুত পাথরের মিম্বার, জমরূদ পাথরের মিম্বার, স্বর্ণের মিম্বার, রূপার মিম্বার, যার যার উপযুক্ততা অনুপাতে দেয়া হবে। এমনকি- জান্নাতীদের নিম্ম পদমর্যাদার লোকের জন্যও মিম্বার সাজানো হবে। তাঁদের মধ্যে কেউ ছোট বলে গণ্য হবেনা। প্রত্যেককে দেয়া হবে মিশ্ক ও কাপুরের কুশান। কুশানে বসা লোকেরা কুরসিতে বসা লোকদেরকে তাঁদের চেয়ে বেশী উত্তম বলে মনে করবে না।

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) আগ্রহ করে নবীজীকে জিজ্ঞেস করলেন- আমরা কি আমাদের রবকে ঐখানে পরিষ্কারভাবে দেখতে পাবো? হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন- হাঁ, অবশ্যই। তোমরা কি দিনের বেলায় সূর্য এবং পূর্নিমার রাত্রে চন্দ্র পরিষ্কার দেখতে পাওনা? এতে কোন সন্দেহ আছে কী? আমরা আরয করলাম- না- কোন সন্দেহ নেই। হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন- ঐভাবেই তোমরা নিঃসন্দেহে আল্লাহ্কে দেখতে পাবে। ঐ মজলিসে এমন কোন লোক থাকবে না- যাদেরকে আল্লাহ্ পরিষ্কারভাবে দেখা দেবেন না। মাঝে কোন প্রতিবন্ধক থাকবে না। ঐ মজলিসের একজনকে আল্লাহ্ বলবেন-“তোমার কি মনে পড়ে- তুমি অমুক দিন এই এই অন্যায় কথা বলেছিলে? তখন বান্দা দুনিয়ার কিছু কিছু গুনাহের কথা স্মরণ করে আরয করবে- হে আল্লাহ্! তুমি কি আমার সে অপরাধ ক্ষমা করে দাওনি? আল্লাহ্ বলবেন- হ্যাঁ, আমার মুক্ত ও প্রশস্ত ক্ষমার কারণেই তো আজকের এই মর্তবা লাভ করেছো।

এরূপ কথাবার্তার মাঝেই হঠাৎ করে তাঁদের মাথার উপর মেঘমালা এসে তাঁদেরকে ঢেকে ফেলবে এবং এমন সুগন্ধবৃষ্টি বর্ষন করতে থাকবে- যা তাঁরা কোনদিন দেখেনি। তখন এক পর্য্যায়ে আমাদের রব আল্লাহ্ বলতে থাকবেন- তোমরা এখন এ স্থানত্যাগ করো এবং ঐদিকে যাও- যেখানে আমি তোমাদের সম্মানে সবকিছু তৈরী করে রেখেছি। তোমাদের যা মনে চায় নিয়ে যাও।

রাবী আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন- তখন আমরা এমন এক বাজারে যাবো- যার চতুর্দিকে ফিরিস্তারা পাহারায় দাঁড়িয়ে থাকবে। ঐ বাজারে এমন এমন জিনিস থাকবে- যা কোনদিন কোন চোখ দেখেনি, কোনদিন কোন কানও এ সংবাদ শুনেনি এবং কারো মন কোনদিন কল্পনাও করেনি। অতঃপর আমাদের মন যা চাইবে- তাই বহন করে নিয়ে আসা হবে। ঐসব জিনিসের কোন বেচাকেনা হবেনা- ফ্রি দেয়া হবে। ঐ বাজারে বেহেস্তীগণ পরস্পর মোলাকাত করবে” (দীর্ঘ হাদীস)। (তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ্ সুত্রে মিশকাত ৪৭৯ পৃষ্ঠা- জান্নাতের বয়ান)।

-হযরত আবু হোরায়রা সায়ীদ ইবনে মুসাইয়িবকে বেহেস্তের বাজারে একত্রিত হওয়ার কথা বলে এই দীর্ঘ প্রাণবন্ত হাদীসটি শুনিয়ে দিলেন। কি স্বাদের বয়ান এটি-জলিল)।

(৯) ছোট মর্যাদার জান্নাতীর জন্য থাকবে ৮০ হাজার খাদেম ও ৭২ জন হুর
عن ابی سعید الخدری ص قال قال رسول اللّٰہ ﷺ ادنی اھل الجنہ الذی لہ ثمانون الف کادم واثنثان وسبعون زوجۃ وتنصب لہ قبۃ من لؤلؤ وزبرزد وباقوت کما بین جابیۃ الی صنعاء رواہ ابن ماجۃ الدارمی۔

অর্থঃ হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- আল্লাহর প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- “একজন ছোট মর্যাদার জান্নাতী ব্যক্তির জন্য খাদেম থাকবে ৮০ হাজার এবং হুর স্ত্রী থাকবে ৭২ জন। আর তাঁর জন্য একটি গম্বুজ তৈরী করা হবে লুলু, জামরুদ, ও ইয়াকুত পাথর দিয়ে। ঐ গম্ভুজের দৈর্ঘ হবে সিরিয়ার জাবিয়া নামক স্থান হতে ইয়ামন দেশের সানা পর্য্যন্ত”। (ইবনে মাজাহ্ ও দারামী শরীফ)।

(১০) হযরত মুছা (আঃ) ব্যতিত জান্নাতীদের বয়স হবে- দাঁড়ি গোপ বিহীন ৩০/৩৩ বৎসর-
عن معاذبن جبل ان النبی ﷺ قال یدخل ھل الجنۃ الجنۃ جرداء مرداء مکحلین ابناء ثلاثین او ثلاث وثلاثین سنۃ۔ وفی روایۃ جابر بن عبد اللّٰہ الاموسی بن عمران فانہ لہ لحیۃ الی سرتہ خرجہ الترمذی۔

অর্থঃ মুয়ায ইবনে জাবাল (রাঃ) বলেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- জান্নাতবাসীরা পশমবিহীন ও দাঁড়িগোফ বিহীন অবস্থায় সুন্দর সূরতে ৩০/৩৩ বৎসরের নিখুঁত যুবক হয়ে সুরমা মন্ডিত চোখে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হযরত জাবেরের বর্ণনায় আছে- “কিন্তু হযরত মুছা আলাইহিস সালাম নাভি পর্য্যন্ত লম্বা দাঁড়ি নিয়ে প্রবেশ করবেন”। (তিরমিযি)।

টিকাঃ হাদীসের বর্ণনার ধরনে বুঝা যায়- এ অবস্থা হবে শুধু উম্মতের। নবীগণ হবেন মুরব্বী সুরতের এবং ইহাই মানানসই। তদুপরি- নবী করীম (ﷺ) অন্যের জন্য এই সংবাদদাতা- নিজের জন্য নন। এটি মনে রাখতে হবে। হুযুরের বয়স ও সুরত হবে নবীগণের সর্দারের সূরত ও মানানসই।

(১১) জান্নাতে সন্তানাদি, খেত খামার ও চাষাবাদ- সবই দেয়া হবে- যদি কেউ চায়

(১১-ক) আল্লাহ্পাক ইরশাদ করেন-
لَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ
অর্থঃ “জান্নাতে তোমাদের মনে যা ইচ্ছা করবে- তাই দেয়া হবে এবং তোমরা যা দাবী করবে- তাই দেয়া হবে”। (সুরা হা-মীম-সিজদাহ-৩১)

ব্যাখ্যাঃ জান্নাতে মেহমানদারীর সব আয়োজন তো থাকবেই- যা জান্নাতীদের জানার বাইরে। তারপরেও যদি দুনিয়ার অভ্যাসে কেউ কিছু চেয়ে বসে- তাও সরবরাহ করা হবে- চাওয়ার সাথে সাথেই। উড়ন্তপাখী দেখে খেতে মনে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে বুনা হয়ে সামনে হাযির হবে। সন্তান চাইলে সাথে সাথে হুর গর্ভবর্তী হবে এবং সন্তান ভূমিষ্ট হয়ে খিলখিল করে হাসতে থাকবে। খেতখামার করতে মনে চাইলে সাথে সাথে হালচাষের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু শর্ত হলো- মনে চাইতে হবে বা দাবী করতে হবে। এ প্রসঙ্গে অনেক হাদীস আছে। যেমন,

(১১-খ) বেহেস্তী ব্যক্তি চাইলে হাওয়াই ঘোড়া দেয়া হবে-
عن بریدۃ ان رجلا قال یا رسول اللّٰہ ﷺ ھل فی الجنۃ من خیل ۔ قال ان اللّٰہ ادخلک الجنۃ فلا تشاء ان تحمل فیھا علی فرسی یاقوتۃ حمراء یطیربک فی الجنۃ حیث شئت الا فعلت ۔ و سألہ رجل فقال یا رسول اللّہ ھل فی الجنۃ من ابل؟ قال فلم یقل لہ ما قال لصاحبہ فقال: ان یدخلک الجنۃ یکن لک ۔ ما اشتھت نفسک ولذت عینک ۔ رواہ الترمذی۔

অর্থঃ হযরত বোরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত- এক ব্যক্তি আরয করলো- ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (ﷺ)! জান্নাতে কি ঘোড়া পাওয়া যাবে? রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন- আল্লাহ্ তায়ালা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তুমি ঘোড়ায় আরোহন করতে ইচ্ছা করলে লাল পাথরের ঘোড়া তোমাকে নিয়ে যথায় ইচ্ছা উড়ে বেড়াবে”।

আরেক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো- হে আল্লাহর রাসুল! বেহেস্তে কি উট থাকবে? নবী করীম (ﷺ) পূর্বের লোকটিকে যেভাবে বলেছিলেন, তাঁকে ঠিক সেভাবে না বলে শুধু বল্লেন- আল্লাহ্ তোমাকে জান্নাতে নিবেন এবং তোমার মনে যা চায় এবং যাতে তোমার চক্ষু শীতল হয়- তাই দেয়া হবে”। (তিরমিযি)

নোটঃ দুনিয়ার চিন্তাভাবনায় যা ভাল মনে করা হয়- জান্নাতে গিয়ে শতগুণ উন্নত ব্যবস্থা দেখে দুনিয়ার সখ আর থাকবে না। মনের মালিক তো আল্লাহ্!

(১১-গ) জান্নাতীরা ইচ্ছা করলে তাঁদের স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে তাৎক্ষনিক সন্তান প্রসব করবে এবং বড় হয়ে যাবে-
عن ابی سعید الخدری ص قال المؤمن اذا اشتھی الولد فی الجنۃ کان حملہ ووفعہ وسنہ فی ساعۃ کما یشتھی وقال اسحاق بن ابراھیم فی ھذا الحدیث ۔ اذا اشتھی المؤمن فی الجنۃ الولد کان فی ساعۃ ولکن لا یشتھی رواہ الترمذی۔

অর্থঃ হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) এক রেওয়ায়াতে বর্ণনা করেন- মোমেনগণ যখন জান্নাতে সন্তান পেতে চাইবে, তখনই- সন্তানের গর্ভধারণ, জন্মগ্রহণ ও পূর্ন বয়স একই সময়ে হয়ে যাবে। ইছহাক ইবনে ইব্রাহীম অত্র হাদীস এভাবে বর্ণনা করেছেন- “মুমিনগণ যখন বেহেস্তে সন্তান চাইবে- তখনই হয়ে যাবে; কিন্তু তাঁরা তা চাইবে না”। (তিরমিযি)

ব্যাখ্যাঃ চাইলে হয়ে যাবে- না চাইলে হবেনা। এটা আল্লাহর এলেমের মধ্যে আছে। কিন্তু স্থানটি তো জান্নাত। দুনিয়ার মত কঁচু, ঘেঁচু, বিড়ি সিগারেট- হুক্কা তামাক- যা ইচ্ছা- তাই চাওয়ার মত পরিবেশ কি তখন থাকবে? হুক্কাখোর ও তামাকখোর কি রাজবাড়ীতে গিয়ে তামাক খোঁজে? তাঁর মনের গতিই তো তখন পরিবর্তন হয়ে যায়। জান্নাতে অনেক উন্নত পরিবেশ বিরাজ করবে। ধারনার বাইরে নাজ-নেয়ামত দেখেও যদি কেউ হুক্কাবিড়ি, তামাক চায়- তাহলে বুঝা গেল- সে অতি নীচুরুচির লোক। এই রুচি নিয়ে কেউ জান্নাতে যাবে- এটা কল্পনাও করা যায় না। আল্লাহ্পাক তাঁর ইচ্ছা পূরণ করবেন বলে ওয়াদা করেছেন। তাঁর ইচ্ছা তখন কি হবে- তা তো আল্লাহ্পাক পূর্বেই জানেন। তাই তাঁর ইচ্ছার স্বাধীনতার কথা ঘোষনা করেছেন। তামাকবিড়ি সাপ্লাই দেওয়া উক্ত ওয়াদার উদ্দেশ্য নয়। তখন রুচিই পরিবর্তিত হয়ে যাবে। দুনিয়ার রুচি কি সেখানে থাকবে?

(১১-ঘ) ক্ষেতিগৃহস্থি চাইলেও দেয়া হবে
عن ابی ھریرۃ ص ان رسول اللّٰہ ﷺ کان یحدث یوما وعندہ رجل من البادیۃ ۔ ان رجلا من اھل الجنۃ استأذن ربہ فی الزوع فقال لہ : اولست فیما شئت ؟ قال: بلی ولکن احب ان ازرع فاسرع وبذر فیادرالطرف نباتہ۔ واستواؤہ واستحصادہ وتکویرہ امثال الجبال فیقول اللّٰہ۔ یاابن آدم فانہ لایشبعک شئی فقال الاعرابی: یارسول اللّہ لا تجد ھذا الاقر یشأ اوانصاریا۔ فانھم اصحاب زرع ۔ فاما نحن فلسنا فاصحاب الزرع ۔ فضحک رسول اللّٰہ ﷺ ۔ رواہ البخاری
۴۲ نمبر

অর্থঃ হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত- নবী করীম (ﷺ) একদিন আলোচনা করছিলেন। তাঁর পাশে ছিল একজন মরুচারী লোক। হুযুর (ﷺ) কথার মধ্যে বল্লেন- “বেহেস্তে এক ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ক্ষেত খামারের অনুমতি চাইবে”। আল্লাহ্পাক তাঁকে বলবেন- তুমি কি দুনিয়াতে ইচ্ছমত কৃষিকাজ করোনি? সে বলবে- হাঁ, করেছি। তবে বর্তমানেও চাচ্ছি জান্নাতে চাষাবাদ করবো- যাতে বীজ বপনের সাথে সাথে অঙ্কুর উদগম হয় এবং সাথে সাথে যেন পাতা বের হয়, গাছ মোটা তাজা হয়ে ঠিকঠাক হয়ে যায় এবং সাথে সাথে যেন ফল ধরে ও পাকে এবং সাথে সাথে যেন কেটে আনতে পারি। ফসলের স্তুপ যেন পাহাড় সমান উঁচু হয়ে যায়। আল্লাহ্ বলবেন- “হে বনীআদম! কিছুতেই তোমার তৃপ্তি নিবারণ হচ্ছে না। নবী করীম (ﷺ) -এর বর্ণনা শুনে মরুচারী লোকটি বললো- “হে আল্লাহর রাসুল (ﷺ)! কোরাইশগণ তো পূর্বে ফসল বুনানো জানতোনা, আনসারদের সংস্পর্শে এসে তাঁরাও এখন ফসল করা শিখেছে। আমরা তো মরুর বদ্দু। আমরা ফসলাদি ফলাইনা (বরং ছাগল মেষ চড়াই)। তাঁর কথা শুনে হুযুর (ﷺ) হেসে ফেললেন”। (বোখারী)।

ব্যাখ্যাঃ একজন লোক জান্নাতে গিয়ে ক্ষেত খামার করার ইচ্ছা করবে। নবী করীম (ﷺ) -এর জবানে একথা শুনে উপস্থিত মরুবাসী লোকটি বলে উঠলো- ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমরা ক্ষেত খামার করিনা- ছাগল চড়াই। ক্ষেত খামার করে আনসারগণ এবং হালে কোরাইশরা এসে তাঁদের নিকট থেকে ক্ষেত খামার করা শিখেছে। সুতরাং ওনারাই জান্নাতে খেত খামার করার আবদার করবে- আমরা নই। একথা শুনে তাঁর সরলতা দেখে নবী করীম (ﷺ) হেসে ফেললেন। মোদ্দাকথা- জান্নাতে আল্লাহ্পাক মানুষের ইচ্ছা পূরন করবেন- যদি সে ইচ্ছা করে। অপর হাদীসে এসেছে- দুনিয়ার এমন তুচ্ছ জিনিসের ইচ্ছা তাঁদের মনেও জাগবে না।

নোটঃ উক্ত হাদীসখানায় হাল্কা রসিকতার সাথে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতের কত সুন্দর চিত্র তুলে ধরেছেন। এ ধরণের বর্ণনা সাহাবীগনের কাছে খুবই চিত্তাকর্ষক বলে মনে হতো। হায়! আমরা যদি হুযুরের পবিত্র জবানে এমনি ধরণের দু’ একটি মধুর বাণী শুনতে পেতাম!




Post a Comment

0 Comments